মানুষ কি সত্যিই সভ্য ?
মানুষ কি সত্যিই সভ্য ?
-ধর্ম, বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে এক সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান
মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী,
এই
কথাটি
আমরা
ছোটবেলা থেকেই
শুনে
আসছি।
মানুষকে বলা
হয়
আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা
জীব।
কারণ,
সে
চিন্তা
করতে
পারে,
সৃষ্টি
করতে
পারে,
সমাজ
গড়তে
পারে।
কিন্তু
প্রশ্ন
, মানুষ কি
সত্যিই
সভ্য?
যদি
সভ্যই
হতো,
তবে
কেন
তাকে
নিয়ন্ত্রণ করতে
লাগে
পুলিশ,
সেনা,
র্যাব,
গোয়েন্দা বাহিনী,
অস্ত্র
ও
গোলাবারুদ? সভ্যতার দাবি
যদি
সত্য
হয়,
তাহলে
কেন
মানুষকে ভয়
দেখিয়ে
আইন
মানানো
লাগে?
এই প্রশ্নগুলো এক
ধরনের
আত্মসমালোচনার আহ্বান। মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলা
হয়
তার
বুদ্ধি,
নৈতিকতা ও
বিবেকের কারণে।
কিন্তু
এই
তিনের
একটিও
যদি
হারিয়ে
যায়,
তখন
সেই
মানুষ
হয়
বিধ্বংসী, আত্মকেন্দ্রিক ও
শোষক।
সভ্যতার মাপকাঠি তখন
প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে
পড়ে।
প্রাণীকুলে অন্যসব প্রাণী প্রকৃতির নিয়মেই
চলে।
সিংহ
হত্যা
করে
খিদে
মেটাতে,
কিন্তু
আনন্দের জন্য
নয়।
পিঁপড়ে,
মৌমাছি,
বাঘ
কিংবা
পাখি-তারা সবাই তাদের
প্রাকৃতিক সীমার
মধ্যে
থেকে
বাঁচে।
তাদের
মধ্যে
স্বার্থ আছে,
কিন্তু
লোভ
নেই;
হিংসা
আছে,
কিন্তু
নিষ্ঠুরতা নেই।
অন্যদিকে মানুষ
নিজের
বুদ্ধি
দিয়ে
প্রাকৃতিক নিয়ম
ভাঙে,
নতুন
নিয়ম
বানায়,
আইন
তৈরি
করে,
কিন্তু
সেই
আইনের
ফাঁক
গলে
আবার
অন্য
মানুষকে শোষণ
করে।
মানুষ
প্রকৃতির সঙ্গে
সঙ্গতি
রেখে
বাঁচতে
শেখেনি,
বরং
প্রকৃতিকে নিজের
আধিপত্যে আনার
চেষ্টা
করেছে।
ফলে
সৃষ্টি
হয়েছে
পরিবেশ
বিপর্যয়, যুদ্ধ,
জলবায়ু
সংকট
ও
অস্তিত্বের হুমকি।
ধর্মের আলোকে সভ্যতা
ধর্মীয় দৃষ্টিতে মানুষকে শ্রেষ্ঠ বানানো
হয়েছে
নৈতিকতার সম্ভাবনায়, বাস্তবে নয়। কোরআনে বলা
হয়েছে,
“আমরা
মানুষকে সৃষ্টি
করেছি
উত্তম
আকৃতিতে, অতঃপর আমি উহাকে হীনতাগ্রস্তদের
হীনতমে পরিণত করি—” (সূরা আত-তিন, আয়াত ৪-৫)। কিন্তু মমিন ও সৎকর্মপরায়ণ নয়। বিষয়টি
এমন যদি পথভ্রষ্ট হয়
তবে
পশুর
চেয়েও
অধঃপতিত। অর্থাৎ,
মানুষ
তখনই
শ্রেষ্ঠ, যখন
সে
বিবেক,
দয়া
ও
সংযমে
বেঁচে
থাকে।
যখন
সে
অহংকারে অন্ধ
হয়,
ক্ষমতার নেশায়
মত্ত
হয়,
তখন
সে
সভ্য
নয়,
বরং
অমানবিক হয়ে
ওঠে। বুদ্ধ, যিশু,
মুহাম্মদ (সা.),
কৃষ্ণ
বা মহান ধর্মীয় মনীষীদের শিক্ষা
সব
জায়গায়
একটাই-
“মানুষকে মানুষ
হতে
শেখাও।”
সভ্যতা
কোনো
বাহ্যিক সাজ
নয়,
এটি
এক
অন্তর্গত শুদ্ধি।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সভ্যতা ও নিয়ন্ত্রণ
বিজ্ঞানের ভাষায় মানুষই একমাত্র প্রাণী
যার
prefrontal cortex এত
উন্নত,
সে
ভবিষ্যৎ ভাবতে
পারে,
যুক্তি
করতে
পারে,
পরিকল্পনা করতে
পারে।
কিন্তু
এই
মস্তিষ্কই আবার
তাকে
করেছে
সবচেয়ে
বিপজ্জনক। কারণ,
সে
জানে
কীভাবে
যুদ্ধ
শুরু
করতে
হয়,
কীভাবে
অস্ত্র
বানাতে
হয়,
কীভাবে
অন্যকে
দমন
করতে
হয়। মানুষ সভ্যতার নামে
এমন
প্রযুক্তি তৈরি
করেছে
যা
একসাথে
পৃথিবী
ধ্বংস
করতে
পারে,
পরমাণু
বোমা,
জীবাণু
অস্ত্র,
জলবায়ু
পরিবর্তনের অস্ত্র। তাই
বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে
শক্তি,
কিন্তু
সেই
শক্তি
তাকে
করেছে
ভয়াবহভাবে অনিশ্চিত।
দর্শনের
ব্যাখ্যা: সভ্যতার মুখোশ
ফ্রয়েড বলেছিলেন, “ সভ্যতা
টিকে
আছে
দমন
ও
অপরাধবোধের ওপর।”
অর্থাৎ,
সভ্যতার মুখোশের আড়ালে
লুকিয়ে
আছে
মানুষের পশুত্ব-যা সুযোগ পেলেই
বেরিয়ে
আসে।
নিটশে
লিখেছিলেন, “সভ্যতা
হলো
মানুষের বুনো
স্বভাবকে পরিমার্জিত রাখার
কৌশল।” এই
পরিমার্জনই মানুষকে কখনো
মানবিক,
কখনো
নিষ্ঠুর করে
তোলে।
মানুষ
তাই
এক
দ্বৈত
সত্তা,
একদিকে
দেবতুল্য, অন্যদিকে শয়তানের মতো
ধ্বংসাত্মক।
তাহলে মানুষ কি সত্যিই সভ্য?
মানুষ প্রকৃত অর্থে
এখনো
সভ্য
হয়নি;
সে
কেবল
সভ্য হওয়ার পথে এক অভিযাত্রী । সভ্যতা
কোনো
শেষ
গন্তব্য নয়,
এটি
এক
যাত্রা,
যেখানে
মানুষ
প্রতিনিয়ত নিজের
অন্ধকার দিকের
সঙ্গে
লড়ছে।
যে
দিন
মানুষ
অস্ত্র
ছাড়াই,
ভয়
ছাড়াই,
বাহিনী
ছাড়াই,
বিবেক
ও
নৈতিকতার শাসনে
নিজেকে
পরিচালিত করতে
পারবে,
সেদিনই
তাকে
সত্যিকারের সভ্য
বলা
যাবে।
শেষকথা:
মানুষকে শ্রেষ্ঠ করেছে তার চিন্তা,
আত্মসমালোচনা ও
বিবেকের ক্ষমতা। আমি যে প্রশ্ন
করেছি-“মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে যদি বাহিনী
লাগে,
তবে
সে
কেমন
সভ্য?”
আমার আপানর মধ্যে থেকে এমন প্রশ্নই
আপনার আমার মানবতার প্রমাণ।
কারণ, সভ্যতার শুরু
হয়
অস্ত্র
থেকে
নয়,
প্রশ্ন থেকে। যে মানুষ নিজেকে
প্রশ্ন
করে,
সে-ই সত্যিকারের মানুষ
হওয়ার
পথে
সবচেয়ে
এগিয়ে।আসুন আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি, নিজের মধ্যে পরিবর্তন লোভগুলো
দেখি, আর যদি এমন ভাব নাইবা আসে তাহলে ভাবুন আপনি কি ?
#human
.png)
Comments