ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব: বর্তমান ইসলামি বিশ্বের সংকট
ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব: বর্তমান ইসলামি বিশ্বের সংকট
ইসলামি সভ্যতা কোনো একক ছাঁচে গড়া নয়, বরং এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত হওয়া বিভিন্ন চিন্তাধারা বা 'মাজহাব'-এর এক বিশাল সমুদ্র। সুন্নি বিশ্বের প্রধান চারটি মাজহাব-হানাফী, শাফিঈ, মালেকী ও হাম্বলী-যেভাবে ইসলামের আইনগত কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে, ঠিক তেমনি শিয়া ঐতিহ্যের 'ইমামী' বা 'বারো ইমামি' (Twelver) মতবাদও মুসলিম বিশ্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে আধুনিক ইরানে এই বারো ইমামি শিয়া মতবাদই রাষ্ট্র ও সমাজের মূল ভিত্তি।
মাজহাবের বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব:
ইসলামের এই শাখাগুলো নিছক বিভাজন নয়, বরং এগুলো ইসলামের বিশালতারই বহিঃপ্রকাশ। সুন্নি চার মাজহাব যেখানে ইজতিহাদ ও সুন্নাহর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার পথ দেখায়, সেখানে শিয়া মাজহাব ইমামতের আধ্যাত্মিক ধারাকে প্রাধান্য দেয়। বিশ্বজুড়ে এই দুই প্রধান ধারার সহাবস্থানই ইসলামি সংস্কৃতির প্রাণ। কিন্তু বর্তমানে ধর্মকে যখন রাজনীতির হাতিয়ার করা হয়, তখন এই বৈচিত্র্যই অনেক সময় কৃত্রিম সংঘাতের উছিলা হয়ে দাঁড়ায়।
আজ বিশ্বের তেমনই এক ভয়াবহ সংকট চলছে। যুদ্ধ এখন আর শুধু তাই অর্থই নয়, ধর্মীয় আক্রোসও একটি কারন। বা ধর্মও হাতিয়ার হচ্ছে অর্থের লোভের।
বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা:
একটি রাষ্ট্রের নিজস্ব রাজনৈতিক পথচলা এবং নাগরিকরা কীভাবে তাদের ধর্মচর্চা করবে, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার কেবল সেই রাষ্ট্রের জনগণের। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো বহিঃশক্তি মধ্যপ্রাচ্য বা ইসলামি বিশ্বের দেশগুলোতে "গণতন্ত্র" বা "সংস্কারে"র নামে হস্তক্ষেপ করেছে, ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ।
• সার্বভৌমত্ব: প্রতিটি রাষ্ট্রের অধিকার আছে তাদের নিজস্ব আইন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা করার।
• ধর্মচর্চার স্বাধীনতা: মানুষের বিশ্বাস ও ইবাদতের স্বাধীনতা কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে না; এটি একটি অভ্যন্তরীণ সামাজিক বিবর্তন।
• রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: বিদেশি মদতে নেতা পরিবর্তন বা হ্ত্যাকান্ড কেবল বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধই ডেকে আনে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।
উপসংহার
বর্তমান বিশ্বে ইসলামি মাজহাবগুলোর মধ্যে ঐক্য এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। ইরানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ধর্মীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের অধিকার কেবল দেশটির জনগণের থাকা উচিত। বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ কেবল ঘৃণা আর বিভেদই বাড়ায়, যা বিশ্ব শান্তির জন্য চরম হুমকি।

Comments