Posts

শুকনো নদীর বুকে বিষের স্রোত

Image
রাজশাহী, যে শহর এক সময় পদ্মা, বারনই, নবগঙ্গা, বারহী, বড়াল, শিবনদী আর অসংখ্য খাল-বিলের জলধারায় জীবন্ত ছিল, আজ সেখানে কেবল শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশ ও দূষিত বর্জ্যের স্তূপ। এক সময় এই নদীগুলোই কৃষিকে সেচ দিত, মাছ ও প্রাণবৈচিত্র্যের আশ্রয় ছিল। এখন সেগুলো কেবল স্মৃতির নদী। শহরের তরল বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন, ও রাসায়নিক বর্জ্য প্রতিদিন এই নদীগুলোর গায়ে ঢেলে দিচ্ছে মৃত্যুর রং। নদীর বুকে বিষের স্রোত রাজশাহী নগরের অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা, বারহী ও বারনই নদী এখন মৃতপ্রায়। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১২টির বেশি পয়েন্ট দিয়ে তরল বর্জ্য সরাসরি নদী ও বিলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এই বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে হাসপাতাল, ওয়ার্কশপ, ট্যানারি ও গৃহস্থালির রাসায়নিক মিশ্রিত পানি। ফলে নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় শূন্য, নদীর তলদেশে জমেছে ভারী ধাতু ও প্লাস্টিক। মাছ নেই, ব্যাঙ নেই, শামুক-ঝিনুক বিলুপ্ত প্রায়। বরং বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক ধরনের বিষাক্ত গন্ধ, যা কাছের বাসিন্দাদের জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিলের মৃত্যু, কৃষির ধ্বংস রাজশাহীর চারপাশের ভুগরোইল বিল, নওহাটা মৌজা বিল,  বিলনচর, বিলদুর...

বদলে যাওয়া বয়ান, জেগে ওঠা প্রজন্ম

Image
 বদলে যাওয়া বয়ান, জেগে ওঠা প্রজন্ম একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে ইতিহাস শুধু অতীতের বিবরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও বটে। ইতিহাস যখন সত্যভিত্তিক ও ন্যায্য বয়ানে রচিত হয়, তখন তা একটি প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি, রাজনৈতিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। কিন্তু সেই ইতিহাসই যখন বিকৃত, চুক্তিতর্কিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানে পরিবেশিত হয়—তখন একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে তার আত্মপরিচয়ের জায়গা হারাতে থাকে। বর্তমান পৃথিবীতে "ন্যারেটিভ" বা বয়ানের যে ক্ষমতা, তা কেবল গল্প বলার শক্তি নয়—এটি ইতিহাসকে পুনর্লিখে নতুন সত্য তৈরি করার এক কৌশল, যার প্রভাবে গড়ে উঠছে বিভ্রান্ত, শঙ্কিত, এবং অনেক সময় আত্মবিস্মৃত প্রজন্ম। ইতিহাসের উপর নিয়ন্ত্রণ মানেই ভবিষ্যতের উপর নিয়ন্ত্রণ- জর্জ অরওয়েল একবার বলেছিলেন, “Who controls the past controls the future; who controls the present controls the past.” এই বাণী আজকের বাস্তবতায় আরও গভীরভাবে সত্য হয়ে উঠেছে। একবিংশ শতাব্দীতে ইতিহাস শুধুমাত্র গবেষণার বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, মিডিয়া প্রপাগান্ডা, কারিকুলামের নীতিনির্ধারণ এবং জাতীয়তাবাদের অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছ...

গণপরামর্শহীন সংস্কারে রাষ্ট্র-জনগণের অপ্রকাশিত দূরত্ব

Image
  গণপরামর্শহীন সংস্কারে রাষ্ট্র-জনগণের অপ্রকাশিত দূরত্ব -সংস্কার ছেড়ে দেওয়া হোক জনগণের হাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় “সংস্কার” একটি বহুল উচ্চারিত শব্দ। অনির্বাচিত  অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার  এখন দেশ পরিচালনা করছে। কথাছিলো একটি সুস্থ্যধারা পরিস্থিতি তৈরী করে , জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া। জনগণের হাতে ক্ষমতা বলতে নির্বাচন। একটা সুস্থ নির্বাচন। নির্বাচনের লক্ষ্যেই কাজ করা উচিত। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে নানা কারনে। এই লক্ষ্য ভ্রষ্টতা জনগণ বুঝতে পেরেছে। হয় এটি কৌশলী নয়তো অদক্ষতা । প্রথম পর্যায়ে এই সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন যেমন-  সংবিধান সংস্কার কমিশন,  নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন,  পুলিশ সংস্কার কমিশন,  ন্যায়বিচার (জুডিশিয়ারি) সংস্কার কমিশন,  দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC),  জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এর পরবর্তীতে  আরও   পাঁচটি   খাতভিত্তিক সংস্কার কমিশন গঠিত করেছে যেমন -  স্বাস্থ্য,  গণমাধ্যম (মিডিয়া),   শ্রম ও কর্মিস্বত্ব বিষয়ক,  নারী বিষয়ক,  ...

মানুষ বাঁচে কিসে ?

Image
 মানুষ বাঁচে কিসে? - এক আন্তঃসম্পর্কিত ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সন্ধানে মানুষ বাঁচে কীসে? প্রশ্নটি শুনতে সহজ, কিন্তু এর উত্তর গভীর। আমরা অনেকেই ভাবি, মানুষ বাঁচে খাদ্যে, বাঁচে বস্ত্রে, বাঁচে বাসস্থানে। কেউ বলে স্বাধীনতায়, কেউ বলে ভালোবাসায়। কিন্তু এ সবই আংশিক সত্য। আসল সত্যটি আরও বিস্তৃত মানুষ বাঁচে প্রকৃতির সঙ্গে তার জৈব-আধ্যাত্মিক বন্ধনে। মানুষ বাঁচে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃসম্পর্কে। আমি যখন বিলের ধারে কৃষকের সাথে কথা বলি, যখন কৃষকের কাছে শিখি মানুষ বাঁচে কিসে? সেটা সত্যিই চমৎকার একটা বিষয়। রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলকুমারি বিলের ধারে কৃষকদের সাথে কথা বলে-বাস্তব থেকে শিখলাম আসলে মানুষ বােঁচে কিসে।   মানুষ একা নয়। সে প্রাণবৈচিত্র্যের এক অণু মাত্র। তার আশপাশে আছে কোটি কোটি জীব, উদ্ভিদ, জলজ প্রাণ, কীটপতঙ্গ, ছত্রাক, অণুজীব। এই সমগ্র জীববৈচিত্র্যের মাঝে মানুষ একটি সন্নিবেশ মাত্র, প্রভু নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ নিজেকে এই বাস্তুসংস্থানের নিয়ন্ত্রক ভাবতে শিখেছে। আর এখানেই শুরু আমাদের সর্বনাশের। একটি বিল, একটি পুকুর, একটি জলাভূমি শুধু জলধারণের জায়গা নয়। ও...

পানি নিয়ে বিবাদ কেনো বরেন্দ্র অঞ্চলে ?

Image
বিএমডিএ ডিপ অপারেটর নিয়োগে কৃষক স্বাধীনতা চায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিপ্রতিবেশ এবং সাংস্কৃতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিামাঞ্চলে অবস্থিত বরেন্দ্র অঞ্চল নামে এই অঞ্চলটি খরাপ্রবণ। এখানকার আবহাওয়া এবং মাটির বৈশিষ্ট্য আলাদা। এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্টীর বসবাস। সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ১৯৯২ সালে তৎকালিন রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মূলতঃ কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ ( ২০১৮ সালের ৩৬ নং আইন) প্রণীত হয়। এতে বলা হয় বরেন্দ্র এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং তদসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কার্য সম্পন্ন করিবার লক্ষ্যে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আইনটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সম্পূর্ণ আইনজুড়ে শুধু এক শ্রেণীর মানুষের সংশ্লিষ্টতা। এখানে যাদের জন্য উন্নয়ন, উন্নয়নে যাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সেই মানুষগু...

পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে খাপখেয়ে নেয়া সবজি জাতের সন্ধান

Image
পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে খাপখেয়ে নেয়া সবজি জাতের সন্ধান পানি ও খরা সহনশীল সবজি পাতা করলা

রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্র পদ্মানদী

Image
পদ্মা পাড়ে মানুষের বিনোদনে নদীতে দূষণ 

বরেন্দ্র অঞ্চলে প্লাস্টিক মুক্ত কৃষি ও জীবন গড়তে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা: একটি নৃতাত্বিক মাঠ পর্যবেক্ষণ

Image
বরেন্দ্র অঞ্চলে প্লাস্টিক মুক্ত কৃষি ও জীবন গড়তে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা:  একটি নৃতাত্বিক মাঠ পর্যবেক্ষণ।   ভূমিকা বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এক বির্স্তীণ এলাকা। একদিকে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, অন্যদিকে জলসংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এই অঞ্চলের জীবনযাপন ও কৃষিকে করেছে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিগত এক দশকে আধুনিক কৃষি প্রবাহে প্লাস্টিকনির্ভর পদ্ধতির আগ্রাসনে এখানে জমির উর্বরতা, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, স্থানীয় কৃষিজীবী জনগোষ্ঠী নিজেরাই শুরু করেছে প্লাস্টিকমুক্ত কৃষি ও টেকসই জীবনের এক নবযাত্রা। এটি কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্বিক রূপান্তর। প্লাস্টিক ও কৃষি: বরেন্দ্র অঞ্চলের সংকট স্থানীয় কৃষক এবং প্রবীণদের তথ্যানুযায়ী-নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র এলাকায় ২০১০ সালের পর থেকে প্লাস্টিক ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকে, বিশেষ করে ফসলে প্লাস্টিকের মালচিং শিট, ফলের বাগানে প্লাস্টিকের ব্যাগ, প্লাস্টিক পাইপ, প্যাকেটজাত বীজ ও কীটনাশক বোতলের মাধ্যমে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়...

উত্তরে বন্যা ও অসাম্য উন্নয়ন দর্শন

Image
 উত্তরে বন্যা ও অসাম্য উন্নয়ন দর্শন বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম অংশ হল উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিামাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলটি বর্তমান রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগ নিয়ে গঠিত। অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চলের কৃষক প্রতিবছর দেশের মানুষের জন্য লাখ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদন করে । উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী বিভাগে যেমন খরা এবং পানিকে কেন্দ্র করে নানা সমস্যা বিদ্যমান। তেমনি রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ জেলাগুলো বন্যা এবং খরা উভয় সংকট বিদ্যমান। দিনে দিনে তা আরো সমস্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই ভৌগোলিক অবস্থানগত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংরাদেশ প্রাকৃতিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এখানে খরা, ঘুর্ণিঝর, শৈত্যপ্রবাহ, লবণাক্ততা, নদী ভাঙ্গণ- নদী ক্ষয়ের সাথে দেশের জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকির মধ্যে বন্যাও একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল অঞ্চলটি ঘিরে দুটি প্রধান সমস্যা খরা এবং বন্যা নিয়ে সমন্বিতভাবে বৃহৎ পরিসরে কৃষক ও জনবান্ধব তেমন কোন স্থায়ীত্বশীল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। যা হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। দুটি বিভাগের আঞ্চলিক ভৌগোলিক অবস্থা, জাতি, পেশা, ...